বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, ত্রাণের সংকট নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেজন্য আমরা প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছি। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী আছে, কোনো সংকট নেই। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, সবাইকে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার বিকালে দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনির্ধারিত বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের মুঠোফানে ভিডিও কলে সংযুক্ত হন। এ সময় উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের সারা দেশের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। স্কুল-কলেজে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের সহায়তায় করোনাভাইরাসের কারণে ধান কাটার কাজটি ভালোভাবে করতে পেরেছি। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা একদিকে বৃক্ষরোপণ করব, অন্যদিকে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ দেব। দোয়া মোনাজাত করা হবে। বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো, খাবার বিতরণ এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা- এটাই হবে আমাদের কাজ। আমি বলব, আমার পিতা, তিনি তো সাধারণ মানুষের জন্যই জীবন দিয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পদ্মার ওপারে বন্যাটা ব্যাপক হারে দেখা যেতে পারে এবং এই বন্যাটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ঠিক ১৯৯৮ সালে যেমন ছিল। সেবার সবচেয়ে দীর্ঘতম বন্যা হয়েছিল। সে সময় বন্যা ৬৯ দিন ছিল। এই বন্যাটা যে ওই সময় এত বেশি ছিল (১৯৯৮ সালে) সেই সময় অনেকেই বলেছিল, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আল্লাহর রহমতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। সে কারণে এবারের বন্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা থেকে আমাদের কি করণীয়, সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অতীতে বন্যার সময়গুলোতে দুর্যোগকবলিত এলাকায় কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সে বিষয়েও স্মৃতিচারণ করেন। নিজ হাতে রুটি বানানোর কথা, খাবার বিতরণের কথা, খাবার পানি, স্যালাইন তৈরিসহ ওষুধপত্রাদি বিতরণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা আছে। তারপরও সেভাবেই তৈরি থাকতে হবে। এছাড়া দলীয় নেতাদের সবাইকে নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সবাইকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, এবার যেহেতু করোনাভাইরাস। তারপরও কোরবানির ঈদ। সবাই কোরবানি দেবে, সবাই সবার মতো মানুষকে সাহায্য করা, মানুষের পাশে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সে ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। আমাদের সবাইকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা সে অনুসারে এগিয়ে যাব। আমাদের বিভিন্ন সংগঠন বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে, ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমাদের নেতারা করোনার মধ্যেও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের নেতারা একের পর এক মৃত্যুবরণ করছে, আমরা অনেক নেতা হারিয়েছি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি আমাদের নেতাকর্মী হারালাম। কারণ প্রত্যেকেই কাজ করেছে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশে করোনাসহ বিভিন্ন বয়সজনিত রোগে মৃত নেতাদের নাম উল্লেখ করে দলীয় প্রধানকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি খবর পাচ্ছি। এই সময়ে অনেকেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সবার জন্য আমি শোক প্রকাশ করছি। আসলে এখন এমন একটা সময়, মারা গেলে যে দেখবে সেটাও করা যাচ্ছে না। তারপরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

বৈঠকে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পুরাতন বার্তা…

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© All rights reserved | Jamunar Barta

Desing & Developed BY লিমন কবির