চৌহালীতে সম্মেলনে আ’লীগ নেতা জলিল হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলে না থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে লতিফ বিশ্বাসকে দুষলেন থানা আওয়ামীলীগ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর থানার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে আঞ্চলিক কমিটির সদস্য আব্দুল জলিল হত্যা ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও থানায় কোন মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান। অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন সময় স্থানীয় সংসদ আব্দুল মমিন মন্ডল এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এক মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আজগর আলী হত্যার ঘটনার জন্য আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার সকালে এনায়েতপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অভিযোগ ওঠেছে, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল ও সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্ধ থাকায় এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সংসদ সদস্য মমিন মন্ডলের সরাসরি পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে লতিফ বিশ্বাসকে জড়িয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এনিয়ে সাধারন নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আজগর আলী বিএসসি উল্লেখ করেন, বুধবার সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট গ্রহনের পর গননার শেষের দিকে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের অনুগত সভাপতি প্রার্থী সিরাজুল আলম মাস্টার ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির পরাজয় জেনে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস নিজে উপস্থিত থেকে তার ভাতিজা নান্নু বিশ্বাস ও ছেলে মিঠু বিশ্বাসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে সম্মেলনে বিশৃংলা সৃষ্টি করে এবং অস্ত্র দিয়ে আঞ্চলিক আওয়ামীলীগ নেতা জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করে। তবে সম্মেলনের দিন উপস্থিত অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল ও লতিফ বিশ্বাস সম্মেলনে স্থলে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে সাধারন সম্পাদক আজগর আলী কৌশলে এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, সম্মেলনের দিন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন, সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হলেও সংঘর্ষ হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমিন মন্ডলের সার্বক্ষনিক সহযোগী ও মদদপুষ্ট পাশ্ববর্তী রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের আজুগড়া গ্রামের হাইব্রিড আওয়ামীলীগ নেতা বদিউজ্জামান বদি ফকিরের সমর্থকদের সাথে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।

নিহতও হয়েছে বদিউজ্জামানের গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল। সম্মেলনে পরিকল্পিতভাবে বিশৃংখলা করার জন্যই এমপির মদদপুষ্ট বদিউজ্জামান বদি এঘটনা ঘটিয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
সম্মেলনে উপস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শামসুজ্জামান আলো জানান, সম্মেলন হয়েছে বেতিল স্কুল ও কলেজ মাঠে। সংঘর্ষ হয়েছে সম্মেলনের বাইরে। যখন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তখন আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সম্মেলন স্থলে ভোট গননা কক্ষে ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল আমার এবং আমার স্বজনসহ ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতাকে দিয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে জলিল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্তপুর্বক দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে এমপি মমিন মন্ডল ও বদিউজ্জামান বদির মুঠো ফোনে কল দিলে কেউ মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

পুরাতন বার্তা…

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
© All rights reserved | Jamunar Barta

Desing & Developed BY লিমন কবির