সলঙ্গায় এক মাদ্রাসায় দু”জনের ভারপ্রাপ্ত সুপারের দাবী, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ, তদন্তের নির্দেশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার


সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গার নলকা হেম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দু”জন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত সুপারের দাবী করায় মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এনিয়ে প্রশাসন বিপাকে পড়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবী করায় সহঃসুপার খাইরুল ইসলামকে চাকুরি থেকে অপসারণ দাবী করেছে ছাত্র অভিভাবক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ।


সরেজমিন মাদ্রাসা গিয়ে জানা যায়, মোঃ খাইরুল ইসলাম ২০১৮ ইং সালে মাদরাসায় সহঃ সুপার পদে যোগদান করেন। গত ১৪এপ্রিল২০২১ ইং তারিখে মাদরাসার সুপার জনাব আঃ হাই আল-হাদী সাহেব অন্যত্র চাকুরী গ্রহন করায় সুপার পদটি শুন্য হয়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি বিধিমোতাবেক খাইরুল ইসলামকে পদাধীকার বলে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ প্রদান করেন।

ভারপ্রাপ্ত সুপার খাইরুল ইসলাম গত ০৬মে২০২১তারিখে সুপার পদের জন্য জাতীয় ও দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। গত ২০মে/২০২১ ভারপ্রাপ্ত সুপার খায়রুল ইসলাম সুপার পদে নিয়োগ লাভের জন্য ভারপ্রাপ্ত সুপার পদ হতে সভাপতি বরাবর ইস্তাফা প্রদান করেন এবং সুপার পদে আবেদন করেন। পদটি শুন্য হওয়ায় গত ২২মে ২০২১ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটি সভা আহবান করেন। বিধিমোতাবেক পদত্যাগ পত্র গ্রহন করে সুপার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জেষ্ঠ্যতার ভিক্তিতে শিক্ষক আবু বক্কার সিদ্দিককে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এরপর নতুন ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কার সিদ্দিক সুপার পদে প্রার্থীদের আবেদন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সভাপতি এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য গনের সমন্বয়ে আবেদন যাচাই বাছাই করেন।

সুপার নিয়োগের লক্ষ্যে ডিজির প্রতিনিধি চেয়ে শিক্ষা বোর্ড বরাবর আবেদন করা হয়। এসময় বোর্ড কর্তৃপক্ষ আগের সুপারের এমপিও তালিকা হতে নাম কর্তন না হওয়া পর্যন্ত সুপার নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে জুনের এমপিও তালিকা হতে সাবেক সুপারের নাম কর্তন হয়।

এমপিও তালিকা হতে সাবেক সুপারের নাম কর্তন হলেও গত ০৪/০৭/২০২১ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । গত ০৫/০৭/২০২১ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত সুপারকে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক ড্রাফট সহ আবেদন দাখিল করলে ১২/০৭/২০২১ ইং তারিখে এডহক কমিটি গঠনের অনুমোদন প্রদান করা হয়। এডহক কমিটিতে ১ জন অভিভাবক সদস্য নিয়োগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার । একজন শিক্ষিক প্রতিনিধির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করলে করোনার প্রকোপ বেশী হওয়ায় অফিস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যেই শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত সুপার পদ হতে পদত্যাগকারী এবং সুপার পদে আবেদনকারী সহ সুপার খায়রুল ইসলাম এর নানা যড়যন্ত্র।

অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই গত ০৯/০৮/২০২১ ইং তারিখে সহঃ সুপারঃ খাইরুল ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নিজে ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখিয়ে এডহক কমিটি অনুমোদনের তারিখ গ্রহন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসে মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক অভিভাবক সদস্য গ্রহন করেন। শুধু তাই নয় জেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষক প্রতিনিধি জন্য আবেদন করেন।

এসময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি ধরে ফেলেন এক প্রতিষ্ঠান দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার হয় কিভাবে। জরুরী ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। চতুর সহ সুপার খাইরুল ইসলাম এখানেই খ্যান্ত হয়নি। তার ভারপ্রাপ্ত সুপার পদটি ফিরে পেতে তিনি উচ্চ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে।


সহঃসুপার খাইরুল তার হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য বিধি বহিভূত ভাবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপারকে বিভিন্ন মাধ্যমে পদত্যাগ ও শারীরিক মানষিকভাবে শায়েস্তা করার জন্য হুমকি প্রদান করছেন। গত ০৭/০৯/২০২১ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত সুপার বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে গেলে সহঃ সুপার ও তার সন্ত্রাসী দ্বারা অপমান অপদস্থ হয়। এই ঘটনায় গত ০৯/০৯/২০২১ ইং তারিখে মাদ্রাসায় জরুরু সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছাত্র অভিভাবক সহঃ সুপার খাইরুল ইসলাম উপস্থিত থাকেন। সভায় সহঃ সুপার তার কার্যকলাপে সদোত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে উপস্থিত সকলের নিকট দুহাত তুলে করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এলাকার অভিভাবক শফিকুল ইসলাম জানান, সহঃ সুপার যে ধরনের অপরাধ করেছেন তাকে চাকুরি হতে অপসারণ করা উচিৎ। তিনি নিজে পদত্যাগ করে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নানা যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।


বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, সহঃসুপার তার নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং মাদ্রাসার সকল কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। মাদ্রাসার সভাপতি আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে উভয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিউল্লাহ জানান, একটি প্রতিষ্ঠানে দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার থাকতে পারেনা। তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পুরাতন বার্তা…

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
© All rights reserved | Jamunar Barta

Desing & Developed BY লিমন কবির